লালন সরকার, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়)
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর শহরের সবুজপাড়া ও এলএসডি মোড় এলাকায়, এক মহিলার অভিযোগে তার স্বামীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কারণে স্থানীয়রা মহিলা বিষয়ক অফিসের কর্মচারী সাইফুল ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের আবৃত্তি শিক্ষিকা জুথিকে আটক করে। পরে তাদের থানায় হস্তান্তর করলে পুলিশ মামলা নিয়ে দুজনকেই গ্রেফতার করে।
সাইফুলের স্ত্রীর সখিনার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জ পৌর এলাকার সবুজ পাড়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে স্থানীয়রা সাইফুল ও জুঁথিকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। রাতে
মামলা নিয়ে দুজনকেই গ্রেফতার করে।জানাগেছে, সাইফুল ইসলাম তার পরিবারসহ দেবীগঞ্জ পৌর এলাকার সবুজ পাড়ার “লাবু” নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং জুথি আক্তার নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। দেবীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসে আয়া পদে চাকরি পাওয়ার আশায় মোছাঃ জুথি বেগম নিয়মিত অফিসে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুলের স্ত্রী সখিনা তাদের পরকীয় সম্পর্ক টের পান। ঘটনার দিনে, যখন জুথি সাইফুলের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যান, তখন দুজনের একসঙ্গে জড়িয়ে ধরে মোবাইলে ছবি তোলা ও দরজা বন্ধ করা দেখে সখিনা বাইরে থেকে সাইফুলের রুমের দরজা বন্ধ করে দেন এবং থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দুজনকেই থানায় নিয়ে যায়।যে বাড়িতে তারা ভাড়া থাকতেন, সেখানে তিনটি রুম রয়েছে। স্ত্রী সখিনার সঙ্গে বনিবনা না থাকার কারণে সাইফুল একা একটি রুমে থাকতেন। সখিনা দুই সন্তানসহ অন্য রুমে থাকতেন, আর বড় ছেলে তার নিজস্ব রুমে থাকতেন।
জুথি আক্তার দেবীগঞ্জ পৌরসভা-এর ৬ নং ওয়ার্ডের বোর্ডিং পাড়া, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একজন বাসিন্দা। তিনি মোঃ মোশারফের স্ত্রী। তাঁদের সংসারে ১৪ ও ১০ বছর বয়সী দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। অপরদিকে, মোঃ সাইফুল ইসলাম পেশায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-এর একজন হিসাবরক্ষক ও ক্রেডিট সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সখিনা ও সাইফুল দাম্পত্য জীবনে ৮ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান এবং সাড়ে ৪ বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
সখিনা সাইফুল দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে গত পাঁচ মাস থেকে এ উপজেলায় চাকরিতে আসার পর থেকেই জুথির সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ানো পর থেকেই নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলে। ঘটনার দিন ভাড়া বাড়িতেই দুজনের কাছেই নির্যাতনের শিকার হন সখিনা। সাইফুলের স্ত্রী আরও অভিযোগ করে বলেন খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে এবং ইনজেকশন সিরিঞ্জ ব্যবহার করে স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের অজ্ঞান করার পর ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেছেন-এমন অভিযোগ উঠেছে।স্বামী সাইফুল অসুস্থ এবং তার বুকে রিং বসানো রয়েছে বলে স্ত্রী সখিনা খাতুন এ বিষয়ে কিছু বলেন না।
পূর্বে কর্মস্থলে নারীসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাওয়া সাইফুল, প্রথম স্ত্রী শারমিনকে ডিভোর্স দেওয়ার পর ১৫/১০/২০১৬ তারিখে সখিনাকে বিয়ে করেন। সাইফুলের আগের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, নাম মোঃ আবু সায়েম (২২)। বর্তমানে তিনি তাকে নিয়ে দেবীগঞ্জেই বসবাস করছেন। তবে ঘটনাটির সময় ছেলে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে, সাইফুলের স্ত্রী সখিনা খাতুন স্বামী সাইফুল এবং তাঁর পরকীয়া প্রেমিকা জুথিকে বিবাদী করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এ এজাহারের ভিত্তিতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর ধারা ১১(গ)/৩০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।দেবীগঞ্জ থানা মামলা নং-৩, তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলে জুথি দেবীগঞ্জ পৌর শহরের ভিআইপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং তিনি দেবীগঞ্জ পৌর মহিলা যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগ দলের সঙ্গে কাজ করতেন। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসে আসা সেলাই মেশিন দেওয়ার নামে জুথি তার এলাকার গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জুথি থানায় আটক এ খবর শুনে ভুক্তভোগীরা থানায় আসেন। জুথি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ৭ দিনের সময় নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ এবং সাক্ষ্য গ্রহণের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে জুথির স্বামী মোশাররফকে মোবাইল ফোনে কল করা হলে তার ছেলে কল রিসিভ করে জানান,তার বাবা বাড়িতে নেই। তিনি আরও বলেন, বাবা আসলে তাকে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলব। পরবর্তীতে তার ফোন থেকে যোগাযোগ করার কথা থাকলেও তিনি আর যোগাযোগ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে গ্রেপ্তার দুই পরকীয়া আসামিকে দেবীগঞ্জ থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করার সময ভিডিও ধারণ করার কারণে জুথি গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দেন। জুথি বলেন, তোমাদের পরে দেখে নিব। আমি আগে ফিরে আসি।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে.এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আজ আসামী দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন