লালন সরকার দেবীগঞ্জ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় রাঙ্গাপানি ও তিস্তা শাখা নদী থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু ও মাটি লুট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়নের খয়ের বাগান সংলগ্ন রাঙ্গাপানি নদী এবং তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিনই অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের মতে, এরশাদ ও মোহর আলী নামে দুই ব্যক্তি সমেত একটি চক্র রাতে ও দিনের আলোতেই মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর ব্যবহার করে নদী থেকে বালি ও মাটি উত্তোলন করছে। এই বালি ও মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে আশপাশের কৃষিজমি ও বসতভিটা। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকার সুযোগেই এই অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হুমকির ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলছেন, নদী থেকে যেভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে, এতে কয়েক বছরের মধ্যে এই এলাকা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় মোছাঃ অছিরন বেগম জানিয়েছেন, ভোররাতে, সকালে এবং রাতে বালু লুট হওয়ার বিষয়টি গ্রাম পুলিশ বা থানা পুলিশের কাছে জানানো হয়। তারা এসে হালকা কিছু খেয়ে চলে যান, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
স্থানীয় সাংবাদিক মোমিন সরকার জানান, অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ না হলে পরিবেশের ধ্বংস অনিবার্য। এজন্য প্রশাসনের দ্রুত অভিযান জরুরি।
উপজেলা সদর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান জানান, বালু উত্তোলনকারী এরশাদকে একাধিকবার বলা হয়েছে যে, সে এই নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করুক। তবে এরশাদ নিজেকে প্রেসিডেন্ট মনে করে কারো কথায় পাত্তা দেন না। স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন