লালন সরকার, দেবীগঞ্জ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটায় বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনায় শ্রমিক বাঁধা দেয়ার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং এই মামলায় ৩ জনকে গ্ৰেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুজন্ত কুমার রায় বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।দেবীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাটি মামলা নং–৯, তারিখ ১৯/০১/২০২৬ খ্রি.। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৮৬/৩৫৩/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।গ্ৰেপ্তারকৃতরা হলেন- দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী হাকিমপুর এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে আমিনুল হক (৪৮), একই এলাকার ময়নউদ্দীনের ছেলে মোসলেমউদ্দিন (৩৮), মৌমারি হাকিমপুর এলাকার সোলেমান শেখের ছেলে মোঃ শাহিনুর ইসলাম (৩৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সমাবেশ, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা, হুমকি ও যৌথ অপরাধের অভিযোগে সোমবার রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সার্টিফিকেট সহকারী সুজন্ত কুমার রায় ইটভাটা মালিক মোঃ আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সোমবার রাতেই যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্ৰেপ্তার করে।গ্ৰেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকার বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার(১৯ জানুয়ারি ) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ একটি দল দন্ডপাল ইউনিয়নের মৌমারী বাজার ও সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে অবস্থিত ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. ইমাম রাজী টুলু। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের একাধিক ইটভাটা থেকে শ্রমিকরা এসে সড়কের ওপর অবস্থান নেন। এ সময় তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযান বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকদের কারণে প্রশাসনিক যানবাহন আটকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। তবে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের বাঁধার মুখে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এঘটনায় অভিযানে অংশ নেয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফেরত আসেন।
মন্তব্য করুন