নিজস্ব প্রতিবেদক, আতাউর রহমান, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়):
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং তার মামিকে অপহরণ করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিশ্বজিৎসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফেরার পথে জেসমিন আক্তার (১৮) ও তার মামি সুমি আক্তার (২২) অভিযুক্তদের কবলে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, জেসমিন আক্তারকে একটি বাড়ির শয়নকক্ষে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সময়ে সুমি আক্তারকে জোরপূর্বক একটি চার্জারভ্যানে তুলে করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে সুমি আক্তার কৌশলে অভিযুক্তদের চোখে বালু নিক্ষেপ করে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর দুই ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিম জেসমিন আক্তারের পিতা মো. জয়ন উদ্দীন বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মো. পারভেজ (২০), মো. রাসেল ইসলাম (২২) ও বিশ্বজিৎ (২১)-এর নাম উল্লেখ করে আরও চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. জয়ন উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর আমি আমাদের ইউনিয়নের দুইজন জনপ্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক মেম্বার রবিউল ইসলামকে বিষয়টি জানাই। তারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে নিরুৎসাহিত করেন এবং পঞ্চায়েতের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার কথা বলেন। পরে আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এ কারণেই চিকিৎসা ও থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)- আইনে হয়েছে।এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা এজাহার পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন