সোহরাব বরগুনা:
সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের মেহের গাজী করোনা গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী হৃদয় ও তার পিতা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় টাকা ফেরতের দাবিতে অভিযুক্তদের বাড়িতে অবস্থান করছেন নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার ছাতারবাগ গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে খোরশেদ আলম।
ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ মাস আগে সৌদি আরবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদেশ পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে আজ-কাল করে তাকে ঘুরানো হয়েছে।
খোরশেদ আলম জানান, বিদেশ যাওয়ার আশায় তিনি বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ওই টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে ঋণের চাপে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এরই মধ্যে তার বৃদ্ধ মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মায়ের এমন অবস্থার মধ্যেও টাকা উদ্ধারের আশায় তিনি বরগুনার বেতাগীতে এসে অভিযুক্তদের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। আমার পরিবার আজ চরম সংকটে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হৃদয় ও রুহুল আমিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার অর্থ ফেরত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন