আতাউর রহমান, দেবীগঞ্জ প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) পরিচালিত প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে চরম লোকবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কৃষিকাজ, গবেষণা ও বীজ উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, উত্তর বঙ্গের আলু বীজ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলো দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫ থেকে ৭০০ টন ভিত্তি আলু বীজ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে অনুমোদিত জনবল কাঠামোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম জনবল কর্মরত থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে আলু প্রজনন বীজ, ভিত্তি আলু বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কার্যক্রম সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, পরিচর্যা, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।বর্তমান মৌসুমে এ কেন্দ্রে ১০২ একর জমিতে আলু উৎপাদন, ১৫ একরে বিভিন্ন জাতের গবেষণা ও মূল্যায়ন, ৫২ একরে প্রজনন বীজ উৎপাদন এবং ৩৪ একরে ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি বীজ উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এছাড়াও প্রায় ৩৫ একর জমিতে সরিষা, ১২ একরে বার্লি এবং ৫০ শতক জমিতে চিয়া সিড, বেটে আলু, কাসাবাসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন হচ্ছে। আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫ একর জমিতে অন্যান্য বীজ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অল্প সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি জরুরি ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগের দাবি জানান।এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানান, কেন্দ্রটি থেকে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত লোকবল সংকট নিরসন ও কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন