মোছাঃ আছমা আক্তার আখি,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত, ‘হিমালয় কন্যা’ নামে খ্যাত দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। পাঁচটি ‘গড়’ নিয়ে নামকরণ হওয়া এ জেলার বেশিরভাগ মানুষ সহজ-সরল ও পরিশ্রমী। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ওয়ার্ড সভা, যা জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকার সমস্যা, চাহিদা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ওয়ার্ড সভা সম্পর্কে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তেমন কোনো ধারণা নেই। অনেকেই জানেন না—ওয়ার্ড সভা কী, এর উদ্দেশ্য কী বা এতে কীভাবে অংশ নিতে হয়। ফলে ওয়ার্ড সভা কার্যক্রম যেন কেবল নামেই সীমাবদ্ধ, দায়সারাভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে জনগণের সুবিধা-অসুবিধা, স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হওয়ার কথা। অথচ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা এমন কোনো সভার খবর পান না কিংবা অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা দাবি করছেন, তারা নিয়মিত ওয়ার্ড সভা আয়োজন করে আসছেন। তবে তাদের অভিযোগ—সরকারিভাবে ওয়ার্ড সভা আয়োজনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ওয়ার্ড সভাকে কার্যকর করতে হলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রচার এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্তই থেকে যাবে।
মন্তব্য করুন