আতাউর রহমান নিজস্ব প্রতিবেদক ।
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা-এ সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিনামূল্যে ১০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় উপজেলা চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সহায়তা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ ফরাহ হোসেন আজাদ, প্রতিমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেন এবং তাদের সাথে কথা বলে খোঁজখবর নেন।

এ সময় তিনি বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, তারাই অগ্রাধিকার পাবে।” তিনি আরও বলেন, সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে। পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন মো. তবারক হ্যাপি, পৌর বিএনপির সভাপতি সরকার ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই সহায়তা তাদের ঘরবাড়ি মেরামত ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবারের বসতঘরের ছাউনি উড়ে যায় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন তারা। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের এই দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম এলাকাবাসীর মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ায়।
মন্তব্য করুন