নিজস্ব প্রতিবেদক আতাউর রহমান
নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। দিনব্যাপী এই আয়োজন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকালে উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী র্যালির মাধ্যমে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাকের নেতৃত্বে বের হওয়া এই র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বর্ণিল ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও বৈশাখী প্রতীকসমূহ, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক। বক্তারা বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং এর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক, যা সকল ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হওয়ার অনন্য উপলক্ষ। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা হয়। দর্শকদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।

এছাড়াও দিনব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, গ্রামীণ খেলাধুলা ইত্যাদি। এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধানগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক–শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ। তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
সার্বিকভাবে, দেবীগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন ছিল এক মিলনমেলা, যেখানে আনন্দ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন