পঞ্চগড় প্রতিনিধি ।
পঞ্চগড়ের বোদা, দেবীগঞ্জ ও আটোয়ারী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরা, মনিটর ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী ক্রয়ে বড় অংকের অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বিরুদ্ধে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়েছে, অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বোদায় ৬১টি, দেবীগঞ্জে ৬৭টি এবং আটোয়ারীতে ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে প্রতিটিতে ৬টি করে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কেন্দ্রপ্রতি ৩২ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।সরেজমিনে বোদা উপজেলার নতুন বন্দর বেংহারি উচ্চ বিদ্যালয়, বেংহারি মৌলভীপাড়া দারুচ্ছালাম কওমি মাদ্রাসা; দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মারেয়া সিংরোড দাখিল মাদ্রাসা, খেলারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; এবং আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, চুচুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুচুলি বটতলী হাট উচ্চ বিদ্যালয় ও দুহসুহ দাখিল মাদ্রাসা ঘুরে দেখা যায়, ইউএনভি নামের ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও ইসোনিক নামের ১৭ ইঞ্চি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ক্যামেরার অনলাইন বাজারমূল্য প্রায় ৭৫০ টাকা হলেও বিল দেখানো হয়েছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। মনিটরের বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার ৩৭০ টাকা। মনিটরের কনট্রাস্ট রেশিও ছিল ৪০০:১ এবং রেজুলেশন ১২৮০×১০২৪ পিক্সেল। অথচ নির্দেশনায় ১৮ দশমিক ৫ ইঞ্চি মনিটর, ১৩৬৬×৭৬৮ রেজুলেশন এবং ১০০০:১ কনট্রাস্ট রেশিওর কথা উল্লেখ ছিল। প্রযুক্তিবিদদের মতে, কনট্রাস্ট রেশিও যত বেশি হবে, স্ক্রিনে তত বেশি প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল ছবি দেখা যায়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, কোনোভাবে ক্যামেরা ও মনিটর স্থাপন করে ভোট শেষ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে স্পষ্টভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। ক্লাসরুমে থাকা শিক্ষার্থীদেরও মনিটরে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি। বিজয় কুমার রায়, হিমেল ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ক্যামেরাগুলো যদি উন্নতমানের দেওয়া হতো, তাহলে ভালো হতো। মনিটরে পরিষ্কার দেখা যায় না, একটু পাশ থেকে দেখলে ছবি নেগেটিভের মতো লাগে।”
সিসি ক্যামেরার দামের বিষয়ে স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান বোদা এবেল ফ্যাসিলিটিস ম্যানেজমেন্টের প্রতিনিধি বাপ্পির সঙ্গে সরাসরি ও মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ও দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং প্রাক্কলন অনুসারেই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সারাদেশে ক্যামেরা ও মনিটরের দাম বেড়ে গেছে। তারপরওআমরা ভালো মানের ক্যামেরা স্থাপন করেছি। মনিটরের ক্ষেত্রে মন্তব্য কলামে উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত টাকায় সম্ভব না হলে পিক্সেল ঠিক রেখে বিকল্প নেওয়া যাবে।”
আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপামনি দেবী বলেন, “কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কাজ হয়েছে। মনিটরের পিক্সেল ঠিক রেখে ১৭ ইঞ্চি নেওয়া হয়েছে, না হলে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হতো। বরাদ্দকৃত অর্থ উপজেলা হিসাব নম্বরে না নিয়ে সরাসরি স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে। তারপরও যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে জেলার পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় একই বরাদ্দে ডাহুয়া নামের ২/৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও ১৯ ইঞ্চি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একই বরাদ্দে এক উপজেলায় উন্নতমানের সরঞ্জাম স্থাপন সম্ভব হলে অন্যত্র কেন তা সম্ভব হলো না।
মন্তব্য করুন