নিজস্ব প্রতিবেদক
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং চেংঠী হাজারা ডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুনহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠেছে ছোট-বড় একাধিক অবৈধ ইটভাটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার কোনো বৈধ লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, M.S.H ভাটার মালিক হাজিরুল, ফজলু ও রাশেদ জামান; J.M.N.S ভাটার মালিক জুয়েল ইসলাম, মামুন ইসলাম, মিন্টু ইসলাম, নবীন চন্দ্র ও সোহেল ইসলাম; এবং S.B ভাটার মালিক সফিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এসব ইটভাটা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—নতুনহাট বাজারের পাশেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বিদ্যালয়টির চারপাশে প্রায় ৫০০-৭০০ বর্গমিটারের মধ্যে গড়ে উঠেছে একাধিক ইটভাটা। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও রাস্তায় জমে থাকা ধুলাবালির কারণে এলাকাজুড়ে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি পড়ছে বলে জানান অভিভাবকরা। এছাড়া ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ভাঙন ও যানজট, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বিদ্যালয় আগে প্রতিষ্ঠিত, নাকি ইটভাটা? যদি বিদ্যালয় আগে হয়ে থাকে, তবে তার চারপাশে কীভাবে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে উঠলো? আর যদি ইটভাটা আগে হয়ে থাকে, তবে বিদ্যালয় স্থাপনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কেন গুরুত্ব দেয়নি?
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, দেবীগঞ্জ থানা, জেলা প্রশাসন পঞ্চগড় এবং পরিবেশ অধিদপ্তর পঞ্চগড় এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রামবাসীর একটাই দাবি শিক্ষার্থীদের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মন্তব্য করুন