লালন সরকার, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়)
পঞ্চগড়-২ নির্বাচনী আসনে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের টাকা আত্মসাৎ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়ন-এর ৩৭ নম্বর মাড়েয়া সিংরোড মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, উক্ত কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল (উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী, দেবীগঞ্জ) দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করেন এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।এ বিষয়ে ভোটের দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান (সহকারী কর্মকর্তা, সোনাহার ভূমি অফিস, দেবীগঞ্জ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে অভিযোগটি প্রকাশ করেন।
তার ফেসবুক পোস্ট, 👉”ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইটিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা দেবীগঞ্জ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জনাব মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল ভোট গ্রহণ শেষে সকল সহকারী প্রিজাইটিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের সাথে দূর ব্যবহার করেন এবং সকলের সন্মানি টাকা আওসাত করেন।
এ বিষয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ফেসবুক পোস্টটি তিনি দিয়েছেন এবং ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই বিকাশ নগতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসার শাকিল, দায়িত্ব থাকা প্রাপ্ত টাকা ৬ হাজার ৩৮০ বুঝে পানি তিনি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি লিখিত অভিযোগ করতে বলেন মিজানুর রহমানকে।
১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে, এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা সহকারী দুই প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ রেজাউল কবির ও নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে তাঁদের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা প্রদান করা হয়নি। প্রিজাইডিং অফিসার শাকিলের আচরণে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। দায়িত্বে থাকা পোলিং অফিসার পারভেজ মোশারফ বলেন, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা থাকলেও প্রিজাইডিং অফিসার তাঁদের টাকা দেননি। এ ছাড়া তাঁর আচরণেও তাঁরা সন্তুষ্ট নন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন,যারা আমার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সরঞ্জাম নিয়ে অফিসে ফিরা বাধ্যতামূলক। যারা ভোট শেষে অফিসে ফিরেছেন, তাদের টাকা ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে। যাদের অফিসে আসার সুযোগ হয়নি, তাদের বাকি টাকা আমার অফিসের স্টাফদের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। যেহেতু শুক্রবার ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকে, তাই প্রয়োজন হলে স্টাফরা বিকাশের মাধ্যমে তাদের টাকা পৌঁছে দেবেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে, এটি কোনো আত্মসাতের বিষয় নয়।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার সহকারী রেটারিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন