পঞ্চগড়, প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যেই ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে ফসলি ও আবাদি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমির উর্বরতা ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালীডাঙ্গা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ফসলি জমি থেকে ২০ থেকে ২৪ ফুট গভীর করে টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। দিন-রাত চলা এই কার্যক্রমে কাটা মাটি মাহিন্দ্রা ট্রলি ও ড্রাম ট্রাকে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
অনুমোদনবিহীন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। সারাদিন ধুলোর কুয়াশায় ঢেকে থাকছে পুরো এলাকা, যা শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আবার বৃষ্টির সময় জমে থাকা কাদা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কিছু মাটি ব্যবসায়ী নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে জমির মালিকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেবীগঞ্জ উপজেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ফসলি জমি কেটে গভীর পুকুর তৈরি করা হচ্ছে এবং সেই মাটি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। জমির মালিক দিনরঞ্জন রায় বলেন,
নিজেদের প্রয়োজনেই জমি থেকে মাটি কাটছি। কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন করছি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র ইটভাটার চাহিদা মেটাতে পরিকল্পিতভাবে কৃষিজমির টপ সয়েল তুলে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে ভবিষ্যতে চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ বলেন,টপ সয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর, যা সাধারণত ওপরের ৮ থেকে ১২ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। এই স্তর কেটে ফেললে জমির বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং তা পুনরুদ্ধার করতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগে। তাই কৃষকদের টপ সয়েল না কাটতে নিয়মিতভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন,কৃষক তার প্রয়োজনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারে এবং আবাদি জমিতে পুকুর তৈরি করতে পারে। তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে অবগত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আইনে একদিকে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, আবার অন্যদিকে টপ সয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউ টপ সয়েল কাটলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন