মোছাঃ আছমা আক্তার আখি পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি,
পঞ্চগড় সড়ক সংস্কারের কাজে বিটুমিন গলাতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহারের মারাত্মক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ওঠে এপিক ব্রিডার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মাথা মিস্ত্রির উপর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিটুমিন গলাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে গার্মেন্টস ঝুট, পরিত্যক্ত চামড়া, টায়ার, প্লাষ্টিকের বোতল ও প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহার করছে। এর ফলে এলাকায় তীব্র বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় মানুষের শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। খোলা আকাশে এভাবে প্লাস্টিক টায়ার ও চামড়া পোড়ানোর ফলে ডাইঅক্সিন ও ফিউরানের মতো মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাস পরিবেশে মিশছে, যা শুধু মানুষের জন্য নয়, বরং স্থানীয় গাছপালা ও মাটির জন্যও চরম ক্ষতিকর। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী আবাসিক বা খোলা স্থানে এ প্লাস্টিকের বর্জ্য পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। জ্বালানি হিসেবে প্লাস্টিক পোড়ানো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিটুমিন গলাতে গিয়ে খোলা অবস্থায় প্লাস্টিক বা গার্মেন্টস বর্জ্য পোড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি। এ বিষয়ে পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, (সওজ) মোঃ মোতাহার আলী বলেন তেতুলিয়া উপজেলার দেবনগর, ময়নাগুড়ি,ডাংগাপারা, এলাকায় সড়ক বিভাগের ১৯০০শ মিটার কাজ যা প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার বরাদ্দে সড়ক পূনরায় মেরামত ও সীল কোড এর কাজ চলছে। কাজ করছেন ঢাকার এপিক ব্রিডার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্লাস্টিকের বর্জ্য পোড়ানোর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানান, স্থানীয়ভাবে যে জ্বালানি এভেলেবেল পাওয়া যায়, ঠিকাদার ও মিস্ত্রীরা সেগুলি ব্যবহার করে। প্লাস্টিকের বর্জ্য ক্ষেতে-খামারে পড়ে থাকতো সেটা তারা জ্বালিয়ে ফেলছে এটা একটা ভালো দিক। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারির অভাবকেই পরিবেশবাদীরা দায়ী করছেন।
মন্তব্য করুন