নিজস্ব প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক। এ সময় তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক আনসার সদস্যকে মারধর করে সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই আনসার সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই উপজেলার ‘মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশন’-এ জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তবে লাইনে থাকা অধিকাংশ চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক চালক তেল নিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ইউএনওকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন ত্যাগের নির্দেশ দেন এবং দুইজন চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন।এ সময় হঠাৎ শতাধিক লোকের একটি মিছিল এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক আনসার সদস্যকে মারধর করে তার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন ইউএনও। পরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। কাগজপত্রবিহীন চালকদের লাইন ছাড়তে বলায় এবং দুইজনকে জরিমানা করায় হামলার ঘটনা ঘটে। আমার নিরাপত্তাকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।”দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন