১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

সরিষার হলুদে রাঙা দেবীগঞ্জ, প্রণোদনায় উৎপাদনে নতুন ইতিহাস

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জ .প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে একরের পর একর জমি জুড়ে হলুদ সরিষার ফুলে সৃষ্টি হয়েছে অনন্য এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কোথাও কোথাও দল বেঁধে মানুষ সরিষার খেত দেখতে আসছেন। সরিষার ফুলে মৌমাছির ব্যস্ত আনাগোনা ফলনের জন্য শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন কৃষিবিদরা।

রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, আধুনিক চাষপদ্ধতির পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে সরিষার উৎপাদন বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে দেবীগঞ্জ উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, কম খরচে ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বোরো ধান চাষের আগেই সরিষা আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় এবং জমির উর্বরতাও বজায় থাকে। ফলে একদিকে বাড়তি আয় নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাঈম মোরশেদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি মৌসুমে বারি সরিষা, বিনা সরিষা ও স্থানীয় জাতের টরি সরিষাসহ তিনটি জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় প্রায় ৪ হাজার কৃষককে উন্নত জাতের বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে এবং ফুল ঝরার হার কম। এসব কারণে এবার সরিষার ফলন বাম্পার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরিষা চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ বেশি। অনেক কৃষকই জানিয়েছেন, সরিষা বিক্রি করে তারা বোরো ধানের বীজ, সার ও সেচের খরচ জোগাতে সক্ষম হচ্ছেন। এতে করে কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি আসছে বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের তদারকি এবং কৃষকদের আগ্রহ এই তিনের সমন্বয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন শুধু আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই প্রত্যাশিত বাম্পার ফলন নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Author

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন