আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২৬
সব শঙ্কা ও উদ্বেগের মধ্যেই ৯ জানুয়ারি সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষা। ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণে ৬১টি জেলায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনের দিক থেকে এটি দেশের বৃহত্তম নিয়োগ পরীক্ষা। যেখানে সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, সেখানে প্রায় সমপরিমাণ পরীক্ষার্থী এই নিয়োগ–যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের স্বচ্ছতা ও মেধা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মাঠপর্যায় থেকে ‘ডিজিটাল নকল’ ও ‘কেন্দ্র কন্ট্র্যাক্ট’-এর ব্যাপক অভিযোগের পর আজ রোববার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সামনে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শত শত চাকরিপ্রার্থী।
১০ লাখ প্রার্থীর এই নিয়োগ পরীক্ষাটি ছিল মূলত ১০ লাখ পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াই। দেশের বৃহত্তম এই নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সরকার ও অধিদপ্তরের যে ধরনের প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন ছিল, মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে দাবি করেছেন সাধারণ পরীক্ষার্থীরা। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনের নজরদারিতে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। আইন অনুযায়ী প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ জেলাতেই এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায়নি। এর ফলে কেন্দ্রগুলোতে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অনেক কেন্দ্রে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ এবং কেন্দ্র সচিবদের শিথিলতার সুযোগে জালিয়াতি চক্র তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।